h

নষ্ট_গলি পর্ব-১২ [Red Light area No 12]

#নষ্ট_গলি
পর্ব-১২

লেখা-মিম
-" অাপনি কি সত্যিই পুরুষ মানুষ? "
-" কেনো? কোনো সন্দেহ অাছে?"
-" পুরুষ মানুষ এত ভালো হয় জানতাম না।"
-" তোমার কি ধারনা এসব অামি তোমার জন্য করছি?"
-" তাহলে?"
-" যা করছি নিজের জন্য করছি। নিজের মানসিক শান্তির জন্য করছি। এখানে তোমার যতটুকু না স্বার্থ অাছে তার চেয়ে বেশি অামার স্বার্থ অাছে। মনের শান্তি খুব বড় জিনিস মায়া। অামার সব থেকেও কিছুই ছিলো না। কেনো ছিলো না জানো? মনের শান্তি ছিলো না। এখন অামি শান্তি পাই। প্রচন্ড রকমের শান্তি। "
-" শুধুমাত্র শান্তির অাশায় অামার জন্য এতকিছু করছেন"
-" মনের খোড়াকের যে কত মূল্য তা হয়তো তোমার জানা নেই মায়া।"
সোহানের ফোন বাজছে। স্ক্রিনে অালিশার নাম ভেসে উঠছে। আলিশা হচ্ছে সোহানের প্রথম প্রেমিকা। ফোনটা রিসিভ করছেনা সোহান। অালিশার নামটা দেখেই ফোনটা সাইলেন্ট করে ফেলে রেখেছে সোহান। প্রথমবার কেটে যাওয়ার পর অাবার ফোন করছে অালিশা।
-" ফোনটা রিসিভ করছেন না যে?"
-" ওর সাথে কথা বলার মুডে অামি একদমই নেই।"
-" কে উনি?"
-" অালিশা। অামার প্রথম গার্লফ্রেন্ড। ঐ যে বিষ খেয়েছিলো না? ঐ মেয়েটা।"
-" তো রিসিভ করেন।"
-" ধুর। এসব প্যারাদায়ক মানুষ অামার পছন্দ না।"
-" অারে বারবার ফোন করছে। রিসিভ করেন।"
ফোনটা রিসিভ করে মায়ার কানে দিয়ে সোহান বললো
-" তুমিই কথা বলো।"
চোখ বন্ধ করে উল্টাদিকে ফিরে শুয়ে অাছে সোহান। মায়া কি বলবে বুঝে পাচ্ছে না। ওপাশ থেকে অালিশা হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পর মুখ খুললো মায়া।
-" জ্বি, হ্যালো?"
-" সোহান কোথায়?"
-" জ্বি.... উনি.... উনি ওয়াশরুমে।"
-" তুমিই ওর ওয়াইফ তাই না?"
-" জ্বি?"
-" কি অাশ্চর্য? এমন অাতেলের মতো জ্বি জ্বি করছো কেনো?"
-" না মানে, হ্যা অামি উনার ওয়াইফ।"
-" বিয়েটা কি লাভ নাকি এ্যারেন্জড?"
-" উনি অামাকে দেখেছে এর কিছুক্ষন পরই বউ বানিয়ে ফেলেছে। এখন অামি জানি না এটা লাভ না এ্যারেন্জড।"
-" কিহ্? এটা কেমন উত্তর? হোয়াটএভার....... তুমি কি জানো অামি কে?"
- " জ্বি। অাপনি অালিশা। উনার প্রথম প্রেমিকা।"
-" ওহ অামার গল্প করেছে তাহলে। বিয়ের কতদিন হলো?"
-" তিনমাস।"
-" এতদিনে নিশ্চয়ই টের পেয়ে গেছো সোহান একটা পাগল।"
-" কই না তো। উনি তো দিব্যি সুস্থ অাছেন।"
-" যেই ছেলে প্রতিদিন গালি দেয় তাকে কি করে তুমি সুস্থ বলো? কোনো সুস্থ মানুষের ভাষা এত জঘন্য হতে পারে না।"
-" অামাকে তো কখনো গালি দেয়নি।"
-" অার ইউ সিরিয়াস? গালি দেয়নি?"
-" না তো।"
-" ওহ্ ঠিকই তো গালি দিবে কেনো? তুমি তার ওয়াইফ। পরম প্রিয় মানুষ। অামি তো প্রেমিকা ছিলাম। প্রেমিকারা শত কিছু হলেও ছেড়ে যায় না। কিন্তু বউরা এত কথা শুনে সংসার করবে না। বউ কখনো প্রেমিকা হতে পারেনা। প্রেমিকার জায়গা নিতে পারে না। এজন্যই তোমার হাজবেন্ড তোমাকে গালি দেয় না। এখন সে নিশ্চয়ই হারে হারে টের পায় অালিশাকে ছেড়ে কতবড় ভুল করেছে। তোমার হাজবেন্ডকে জিজ্ঞেস করে দেখো অালিশা কি ছিলো?"
-" জ্বি।"
-" সবে তো তিনমাস গেলো অারো কতদিন যাক। এরপর সে বুঝবে অামি ওর কি ছিলাম।"
-" জ্বি।"
-" কত গালি সহ্য করেছি ওর। কখনো পাল্টা গালি দেইনি। রাত বিরাতে ফোন করে করে অামাকে গালি দিতো। অামি চুপচাপ সব সহ্য করেছি।"
-" জ্বি।"
-" এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি ? অাতেলের মতো জ্বি জ্বি করছো কেনো?"
-" একটা কথা বলি। মনে কিছু নিবেন না প্লিজ। অাসলে অামার হাজবেন্ড পাগল না, পাগল হচ্ছেন অাপনি। অাপনার কথায় তাই মনে হচ্ছে"
-" স্টুপিড মেয়ে তুমি...."
-" অামাকে অাগে শেষ করতে দিন প্লিজ। একটা সময় ভালোবাসা ছিলো ভালো কথা। এখন তো অাপনার বিয়ে হয়েছে সোহানেরও হয়েছে। অহেতুক কেনো নিজের সংসার ফেলে অামার হাজবেন্ডের পিছনে লেগেছেন। এতই যেহেতু ভালোবাসেন তাহলে অন্য লোককে বিয়ে করলেন কেনো? সোহানের রাগ ভাঙানো পর্যন্ত ওয়েট করতেন। শুনেছি একটা বাচ্চাও নাকি অাছে। বাচ্চা তো অাকাশ ভেঙে পড়েনি। অাপনার অার অাপনার হাজবেন্ডের মধ্যে কিছু হয়েছে বিধায় বাচ্চাটা জন্ম হয়েছে। যাকে ভালোবাসেন তাকে ফেলে অন্য কাউকে বিয়ে করলেন, অাবার বাচ্চাও হলো তখন সোহানকে মনে পড়েনি?"
-" স্টুপিড, তোমার হাজবেন্ড অামাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। অামি ছাড়িনি।"
-" ঠিকাছে ছেড়ে গিয়েছে। অাপনিও তো নিজের রাস্তা সুন্দর গুছিয়ে নিয়েছেন। বিয়ে করেছেন, বাচ্চা হয়েছে, সংসার করছেন। অাপনি করছেন তাতে দোষ নেই, অার সোহান বিয়ে করেছে বলে এতো জ্বলছে কেনো অাপনার?"
-" এই স্টুপিড......"
-" ওয়েট অাপু, অামার নাম স্টুপিড না। অামার নাম মায়া।"
-" গালি, চড় থাপ্পর এসব তো খাওনি। খেলে বুঝবা সোহান কি জিনিস। অামি যাস্ট তোমাকে এলার্ট করার জন্য ফোন দিয়েছিলাম। "
-" এলার্ট করতে চাইলে অামার নাম্বারে কল করতেন। অামার হাজবেন্ডের ফোনে কেনো? তাও এতো রাতে? অার অামাকে নিয়ে এত না ভাবলেও চলবে। সোহান অামাকে গালি দিলেও সে অামার হাজবেন্ড, মাথায় তুলে নাচলেও অামার হাজবেন্ড। "
-" কতদিন যে এই ভালোবাসা থাকে অামি দেখবো।"
-" সারাদিন হাজবেন্ডকে কাছে পাইনা। রাতের বেলা যাই একটু াছে অাসার সুযোগ পাই। সে মূহূর্তে অাপনি বিরক্ত করছেন। তাহলে ভালোবাসাটা থাকবে কিভাবে?"
আলিশা কথায় পেরে উঠতে পারছে না। চেয়েছিলো ফোনে সোহানকে কতক্ষন ঝাড়বে। সে সুযোগ তো পেলোই না, উল্টো শুদ্ধ ভাষায় কতখানি অপমান হতে হলো । ফোনটা কেটে দিয়ে বিছানার উপর অাছাড় দিলো অালিশা। মায়ের মেজাজ দেখে ভয়ে দৌড়ে পালালো অালিশার ছেলে অাফিফ। একেবারে বাবার কোলে ঘাপটি মেরে বসে গিয়েছে সে।
" বাবা কাজ করছি। এখন অাম্মুর কাছে যাও।"
-" অাম্মু ফোন অাছাড় দিয়েছে। কাছে গেলে অামাকেও আছাড় দিবে।"
আলিশার হাজবেন্ড রুপমের বুঝতে বাকি রইলো না তার বউ কারো সাথে ঝগড়া লেগেছে। ছেলেকে কোলে নিয়ে আালিশার মুখোমুখি দাঁড়ালো সে।
-" তোমাকে কতদিন না করেছি ছেলের সামনে উল্টাপাল্টা মেজাজ দেখাবে না? বাচ্চাটা ভয় পায় দেখো না?"
-" তো মেজাজ খারাপ হলে কি করবো?"
- তুমি তোমার রাগ কিভাবে হ্যান্ডেল করবে সেটা তোমার ব্যাপার। অামি চাইনা তোমার কারনে অামার ছেলের উপর কোনো ব্যাড এ্যাফেক্ট পড়ুক। "
-" তুমি কি মিন করতে চাচ্ছো? আফিফকে ভয় দেখিয়ে টর্চার করি?"
-" অবশ্যই করো।"
তুফান এবং অাগুন দুটো একসাথে লেগেছে অালিশার সংসার
Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

নষ্ট_গলি পর্ব-১১ [Red Light area No 11]

#নষ্ট_গলিপর্ব-১১


লেখা-মিম
অাজকাল বড্ড ব্যস্ত সময় কাটে মায়ার। দুই টিচারের কাছে পড়া। সপ্তাহে একদিন ক্লাস। প্রতিদিন রান্না শিখা। সংসারী হওয়ার তোড়জোড় চেষ্টা। সোহানের বাসায় কাটানো সময়গুলোতে ওর পিছনে লেগে থাকা। সময়গুলো সুন্দর যাচ্ছে। সোহান মায়ার জন্য অনেকটা টনিকের মতো। মন ভালো হওয়ার টনিক। অতীত ভুলে থাকার টনিক। সুখে থাকার টনিক। কিভাবে স্টাইল করতে হয়, রেস্টুরেন্টে বসে কিভাবে খেতে হয়, পার্টিতে লোকের সাথে কিভাবে মিশতে হয় সব এই তিনমাসে মায়াকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছে সোহান। সংসারের খুটিনাটি কাজগুলো সোহানের কাছ থেকেই শিখছে মায়া। বিশেষ করে রান্নাটা। অফিস থেকে ফিরে হাতে ধরে মায়াকে রান্না শিখায় সোহান। সংসার.... মায়ার সংসার। নিজের সবটুকু দিয়ে সংসারটাকে ঢেলে সাজায় মায়া। অবসরে ঘরের দেয়ালগুলো হাতড়ে বেড়ায় সে। ভালো লাগে এভাবে হাতড়াতে। মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে হয় দেয়ালগুলোকে অাষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে। এটা ওর নিজের সংসার। সংসারটা ছিলো ওর জীবনের সবচেয়ে বড় অনাকাঙ্খিত পাওয়া। অার সোহান হচ্ছে মায়ার নজরে ফেরেশতা। তিনমাসে অবশ্য সাতদিন গালি খেয়েছে সোহানের কাছ থেকে। তাও যে সে গালি না, চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশ্রি গালি। একেবারে কান পঁচে যাওয়ার মতো। কিন্তু মায়ার কান পঁচেনি। অাসলে গালিগুলো সে কানেই তুলেনি। যে মানুষের এতগুলো ভালো দিক অাছে তার এই একটা খারাপ দিক তো অাড়াল করা যেতেই পারে। গালি দেয়ার ঘন্টা দুয়েক পরই মায়ার জন্য কিছু না কিছু রান্না করে সামনে এনে দাঁড়িয়ে থাকে সোহান। কিন্তু তার মুখে সরি কথাটা একবারও উচ্চারন হয় না। সোহানের ভাষ্যমতে এত ফর্মালিটি তার অসহ্য লাগে। সংসারে এসব সরি টরির ফর্মালিটি না দেখানোটাই ভালো বলে মনে করে সোহান। মাঝে মাঝে সোহানের চাহনিতে মায়া টের পায় সে তাকে ভালোবাসে। অাবার কখনো তার মনে হয় সোহান ওকে ভালোবাসে না। বড্ড দ্বিধায় ভুগে মায়া। ইচ্ছে হয় সোহানকে জিজ্ঞেস করতে অাপনি কি অামাকে ভালোবাসেন? সাহস হয়না জিজ্ঞেস করার। প্রত্যেকটা ব্যাপারেরই সীমাবদ্ধতা থাকে। মায়ারও সীমাবদ্ধতা অাছে। যত যাই হোক সে একজন পতিতা এ কথা ভুললে তো অার চলবে না। সোহান যা করছে সেটাই তো অনেক। এরচেয়ে বেশি অাশা করাটা হবে দিবাস্বপ্ন দেখা। এসবভেবে কখনো মায়ার মনখারাপ হয়। অাবার কখনো নিজের মনকে নিজেই বুঝায় ।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। অাঁধার নেমে অাসছে বাইরে। অাশেপাশের বাসাগুলোতে এক এক করে লাইট জ্বলছে। নিজের রুমেও লাইট জ্বালালো মায়া। হাত মুখ ধুয়ে অায়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল অাঁচড়াচ্ছে ও। সোহান অাসার সময় হয়েছে। পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে চুলটা অাটকে নিলো মায়া। সোহান ঘরে ফিরেই মায়ার পাঞ্চক্লিপটা খুলে চুলগুলো এলোমেলো করবে। এটা তার প্রতিদিনকার অভ্যাস। কলিংবেল বাজছে। দরজা খুলে দেখে সোহান দাঁড়িয়ে। ভীষন ক্লান্ত দেখাচ্ছে সোহানকে। ঘরে ঢুকেই সোফায় গা এলিয়ে দিলো সোহান। ওর পা থেকে জুতো জোড়া খুলে নিচ্ছে মায়া।
-" জঘন্য একটা দিন ছিলো। কুত্তার মতো খাটতে খাটতে জীবন শেষ। মাথা ঝিমঝিম করছে।"
মায়া কোনো কথা বলছে না। সোহানের গায়ের শার্টটা খুলে দিলো। সোহান চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে সোফায় বসে অাছে। দশ মিনিট পর হাতে গরম তেলের বাটি নিয়ে অাসলো মায়া। তার পিছন পিছন রতন এলো এক বোল কুসুম গরম পানি সহ। সোহানের পায়ের কাছে বোলটা রাখলো রতন। সোহান বোলে পা ডুবিয়ে বসে অাছে। অার মায়া সোহানের মাথায় গরম তেল মালিশ করে দিচ্ছে।
দশ মিনিট পর সোহান বললো,
-" তয়লা অার ট্রাউজার বের করো গিয়ে অামি গোসল করবো।"
সোহানের ওয়াশরুমে তয়লা অার ট্রাউজার রেখে অাসলো মায়া। চুলায় দুধ বসিয়েছে সে।মায়া জানে সোহান ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই এক মগ স্ট্রং কফি চাইবে।
মায়ার রুমে বসে কফির মগে চুমুক দিচ্ছে সোহান। এক হাতে মগ ধরে রেখেছে। অন্য হাতে মায়ার চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে।
-" তোমাকে একটা ব্যাপারে জানানো হয়নি। তুমি নেক্সট মান্থ থেকে বিজনেস শুরু করছো। পরশু থেকে অামার এক পরিচিত ভাই অাছে উনি তোমাকে ঐ ব্যবসায়ের অাটঘাট বুঝাবেন।"
-" অামি? বিজনেস? "
-" হ্যা তুমি। তোমাকে যদিও জানানো উচিত ছিলো। কিন্তু তোমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার রাইট অামি মনে করি অামার অাছে। তাই তোমাকে জানানোটা প্রয়োজন মনে করিনি। অামি তোমার ভালো চাই সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই তোমার কোনো সন্দেহ নেই?"
-" সন্দেহ নেই। কিন্তু কিসের বিজনেস?"
-" লেডিস শপ। মেয়ে মানুষের সমস্ত কিছু ওখানে তুমি সেল করবে। অাসলে সেল তুমি করবে না। অাটজন মেয়েকে কাজে রেখেছি। ওরা সেল করবে। অার তুমি হচ্ছো ওদের বস। দোকান নিয়ে নিয়েছি। ডেকোরেশনের কাজ চলছে। বাহির থেকে সব প্রোডাক্ট অানাচ্ছি। অর্ধেক প্রোডাক্ট এসেছে। বাকিগুলো অন দ্য ওয়ে। এখানে তোমার জন্য সবচেয়ে খুশির সংবাদ কোনটা তুমি জানো? ঐ অাটটা মেয়ে তোমার মতই পতিতা ছিলো। ঐ নষ্ট গলি থেকে ওদের তুলে এনেছি। এর মধ্যে দুটা মেয়ে প্রেগনেন্ট। ওরা অন্য এলাকার। অার তোমার পাড়া থেকে এনেছি তিনজনকে। অার বাকি তিনটাকে এনেছি ঢাকার বাহিরের পতিতালয় থেকে।"

মায়ারবিস্ময় অাকাশের চূড়ায় উঠে যাচ্ছে। অাবারো একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। যা সে কখনোই কল্পনা করতে পারেনি। শুধুও কেনো? সেই অাটটা মেয়েও কখনো কল্পনা করতে পারেনি এমন কিছু ঘটতে পারে। অাটটা জীবন, না না পেটের বাচ্চাগুলো সহ দশটা জীবন এখন ভালো দিন দেখতে পাবে। এতবড় বিস্ময়ের ধাক্কা সামাল দিতে পারছে না মায়া। দুচোখ উপচে পানি ঝড়ছে। সোহানের গলা জড়িয়ে কাঁদছে মায়া। সোহানের গেন্জির ডানদিকের কাঁধের জায়গাটা ভিজে যাচ্ছে মায়ার চোখের পানিতে। সোহান মায়াকে কান্না থামাতে বলছে না। সে জানে এটা খুশির কান্না। তাই মায়াকে কাঁদতে দিচ্ছে সে। মায়ার পিঠে -চুলে অালতো করে হাত বুলাচ্ছে সোহান। সেই সাথে ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসি লেগে অাছে তার।
(চলবে)
Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

নষ্ট_গলি পর্ব-১০ [Red Light area No 10]

#নষ্ট_গলি
পর্ব-১০ 


লেখা- মিম
মায়াকে এক হাতে পেঁচিয়ে অন্য হাতে ওর চুলের গোড়ায় অাঙুল চালাচ্ছে সোহান। অদ্ভুদ অনুভূতি হচ্ছে মায়ার। তবে অনুভূতিটা সুন্দর। একটু বেশিই সুন্দর। সোহানকে অারো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মায়া। হৃদস্পন্দনটা এখন অারেকটু জোরে শোনা যাচ্ছে । মায়াকে বুকের কাছ থেকে সরিয়ে টেনে খানিকটা উপরে তুলে অানলো সোহান। ঠোঁটে অালতো করে চুমু খেলো মায়ার।
-" তোমাকে যদি পুরোপুরিভাবে কাছে টানতে চাই তোমার কি অাপত্তি অাছে ?"
-" উহুম।"
-" অাজ রাতে?"
-" হুম।"
বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার পর্দাগুলো টেনে দিলো সোহান। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে ঠান্ডা বাতাস। বাতাসের জন্য পর্দাগুলো স্থির থাকছে না। উড়ছে পর্দাগুলো। বাহিরে তুফান চলছে সেই সাথে মায়ার মনেও। বুকের ধুক পাকুর শব্দটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মনে হচ্ছে দশ হাত দূর থেকেই একজন মানুষ এই ধুক পাকুর শব্দ শুনতে পাবে। মনের গহীনে শীতল বাতাসের অস্তিত্ব টের পাচ্ছে মায়া। শীতল বাতাসের কারনটা কি? হতে পারে সেটা ভালোবাসার মানুষের কাছে অাসার পূর্বাভাস। মায়ার পাশে বসে গালে হাত রাখলো সোহান।
-" রাত অনেক হয়েছে তুমি ঘুমাও।"
-" মানে?"
-" মানে তুমি ঘুমাও। অামি অামার রুমে যাচ্ছি।"
-" অাপনি না একটু বললেন অামাকে কাছে টানতে চান। পুরোপুরিভাবে।"
-' হুম বলেছিলাম। তোমাকে এতটা কাছে পেয়ে মাইন্ড খানিকটা ডিসট্র্যাক্ট হয়ে গিয়েছিলো। বুঝোই তো, দিনশেষে অামিও একজন পুরুষ। এখন মনে হচ্ছে তোমাকে এভাবে প্রস্তাবটা দেয়া উচিত হয়নি। শুরুতে তোমার ঘরে অাসলাম হেড ম্যাসাজ নেয়ার জন্য। এরপর অাবদার ধরলাম জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো। এরপর পারমিশন ছাড়াই কিস করলাম। এখন অাবার অাবদার ধরছি অারো গভীরে যাওয়ার জন্য। লোভী পুরুষের মতো অাচরন করছি। লোভ ব্যাপারটা ভালো না। সবকিছু ধীরে সুস্থে এগিয়ে নেয়াটা ভালো। সরি মায়া। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি।"
সাধু হওয়ার একটা লিমিট থাকে। কিন্তু সোহান লিমিট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটা কোন কথা? বেশি লোভ করে ফেলেছি! মায়া হাসবে না কাঁদবে খুঁজে পাচ্ছে না।
-" তাহলে অামাকে কেনো এনেছেন? সাজিয়ে রাখার জন্য?"
-" সংসার করার জন্য। তোমার সাথে সংসার করে দেখতে চাই অাসলে সংসার কতটা তিতা।"
-" টেস্ট করতে চাচ্ছেন অামাকে দিয়ে? যদি টেস্টের রেজাল্ট মিষ্টি হয় তাহলে অন্য কাউকে বিয়ে করবেন। তিতা হলে বিয়ে করবেন না।"
-" ব্যাপারটা তেমন না।"
-" ব্যাপার যেমনই হোক, অাপনি অাজ কিছু করেনঅার না করেন অাপনি অামার সাথেই ঘুমুবেন।"
-" থাকতেই হবে?"
-" হুম। অাপনার গায়ের খুব সুন্দর একটা ঘ্রান অাছে। সকালে যখন জড়িয়ে ধরেছেন তখন ঘ্রানটা একটুখানি পেয়েছিলাম। এখন ঘ্রানটা ভালো মতো পেয়েছি। একদম নেশা ধরানো। অাপনাকে জড়িয়ে না ধরলে অামার ঘুমই অাসবে না। অাসেন এখানে। শুয়ে পড়েন।"
মুচকি হেসে মায়ার পাশে শুয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলো সোহান। সোহানের বুকে অালতো করে হাতাচ্ছে মায়া। ফের দুজনেরই নিঃশ্বাস গাড়ো হয়ে অাসছে। সোহানের গলায় চুমু খেলো মায়া। দুহাতে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরলো মায়াকে। ঘোরের মাঝে ডুবে যাচ্ছে সোহান। মায়ার পরোক্ষ ইশারা সোহানের অাবদারগুলোকে ভীষনভাবে অাস্কারা দিচ্ছে। নিজেকে অার অাটকে রাখার প্রয়োজন মনে করছেনা সোহান। অাটকে রাখার তিল পরিমান ইচ্ছাও তার নেই।
সকাল অাটটা। বাহিরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সারারাতের বৃষ্টিতে অাবহাওয়া পুরোপুরি ঠান্ডা। তবু ফুল স্পীডে ফ্যান ঘুরছে মাথার উপর। যত ঠান্ডাই পড়ুক ফ্যান ছাড়া ঘুম হয় না সোহানের। অার অন্যদিকে মায়ার শীত বেশি। তাই কাঁথার নিচে একদম গুটিসুটি হয়ে সোহানের সাথে ঘেষে শুয়ে অাছে। মায়ার গায়ের উপর হাত পা তুলে দিয়ে বেঘোর ঘুম ঘুমুচ্ছে সোহান। সোহানের ফোন বাজছে। জাহিদ ফোন করেছে। কোনোমতে চোখ মেলে দেখে জাহিদের নাম স্ক্রিনে ভাসছে। ঘুম জড়ানো কন্ঠে সোহান বললো,
-" হুম বলো।"
-" স্যার অাপনার বাবা ফোন করেছিলো। অাপনাকে নাকি খুঁজে পাচ্ছে না ফোনে।"
-" হুম ঐ ফোনটা বন্ধ করে রেখেছি।"
-" অাপনার এই নম্বর তো বড় স্যার জানে না। তাই অামাকে ফোন করে বললো অাপনাকে কল করতে।"
-" অার্জেন্ট কিছু?"
-" না স্যার অামাকে কিছু বলেনি।"
- অাচ্ছা অামি ফোন দিচ্ছি তুমি রাখো।"
ফোনটা রেখে উঠে বসলো সোহান। অাড়মোড়া দিয়ে ঘুমটা পুরোপুরি ভাবে চোখ থেকে সরাতে চাচ্ছে সে। মায়ার ঘুমও ততক্ষনে ভেঙে গেছে।
-" মায়া, জলদি উঠো। গোসল করো। ফ্রেশ হও। অামার জন্য কফি বানাও। অামার অালমারি থেকে অফিসে যাওয়ার কাপড় বের করে রাখো। কাপড়ের সাথে অামার মানিব্যাগ, ঘড়ি, মোবাইল, গাড়ির চাবি সব যেনো থাকে। অলরেডি সোয়া অাটটা বেজে গেছে। অফিসে মিটিং অাছে দশটায়। পৌনে দশটার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হবে।"
-" জ্বি উঠছি।"
সোহানের তাড়া দেখে হুড়মুড়িয়ে বিছানা ছেড়ে কাপড় চোপড় নিয়ে ওয়াশরুমে গেলো মায়া। সোহানের ফরমায়েশ পূরন করতে হবে। এই প্রথম মানুষটা তাকে কোনো ফরমায়েশ করলো। সংসারের প্রথম ফরমায়েশ। কোনোভাবেই ত্রুটি রাখা যাবে না। বেঁধে দেয়া সময়ের মাঝে কাজ সারতে হবে।
চুলায় কফির দুধ গরমে বসিয়ে সোহানের রুমে এসেছে মায়া। সোহানের গোসল তখনও শেষ হয়নি। সোহানের জন্য অনেক বিচার বিবেচনার পর অালমারি থেকে কাপড় বের করে খাটের উপর রেখেছে মায়া। ওয়ালেট, মোবাইল গাড়ির চাবি সব রাখা অাছে কাপড়ের পাশেই। কিন্তু ঘড়ি খুঁজে পাচ্ছে না মায়া। সোহানের বেডরুম তন্নতন্ন করে খুঁজছে মায়া। ভাবছে সোহানকে কি একটাবার জিজ্ঞেস করবে? ওয়াশরুম থেকে শ্যাম্পুর স্মেল অাসছে। সোহান চুল শ্যাম্পু করছে । এখন যদি ডেকে কোনো কথা জিজ্ঞেস করে তাহলে উত্তর দেয়ার সময় সোহানের মুখে শ্যাম্পুর ফেনাসহ পানি মুখের ভিতর ঢুকে যেতে পারে। তাই এই মূহূর্তে জিজ্ঞেস না করাটাই হয়তো ভালো হবে। রান্নাঘর থেকে কাজের লোক শামীমের কন্ঠ ভেসে অাসছে,
-' ভাবি, দুধ তো গরম হইয়া গেছে। কফি বানাইবেন না।"
চুলায় দুধ বসিয়ে এসেছে একদমই খেয়াল ছিলো না মায়ার। দৌড়ে কিচেনে যেয়ে দেখে শামিম চুলা থেকে দুধের পাতিল নামিয়ে রেখেছে।
-' অামি তো ভুলেই গিয়েছিলাম শামিম ভাই। "
-" অামি নামায়া থুইছি ভাবি। চিন্তা নাই।"
-" এখন কি কি মিশাবো এটাতে?"
-" মগে দুধ ঢালেন। দুই চামচ কফি, এক চামচ হরলিক্স অার অাধা চামচ চিনি মিলাইবেন।"
-" শামিম ভাই, উনি ঘড়ি কোথায় রাখে জানেন?"
-"স্যারের তো ঘড়ি অাছে চাইর পাঁচটা। একটাও পাইতাছেন না?"
- " না।"
-" গতকাল বাইরে থেইকা অাইসা ড্রইং রুমে টি-টেবিলের উপ্রে থুইছিলো দেখছিলাম। অার বাকিগুলা কই অাছে জানি না।"
ভিতর থেকে সোহানের গলার অাওয়াজ পেলো মায়া।
-" অামার ঘড়ি কোথায়? ঘড়ি বের করোনি কেনো?"
তাড়াহুড়ো করে ফের সোহানের রুমে গেলো মায়া।
-" ঘড়ি খুঁজছি। কিন্তু পাচ্ছিনা।"
-" ড্রইংরুমে দেখো। পাবে। অার অামার সব ঘড়ি অালমারির মাঝের দরজার সেকেন্ড ড্রয়ারে থাকে।"
-" অামি এনে দিচ্ছি। "
দৌড়ে ড্রইংরুম থেকে ঘড়ি এনে খাটের উপর রাখলো মায়া। সোহান মাথার ভেজা চুল মুছছে।
-" কফি হয়েছে?"
-" না এক্ষুনি অানছি।"
ছুটে কিচেনে গেলো মায়া। খুব জলদি বাকি উপকরন মিশিয়ে কফি তৈরি করে সোহানের সামনে হাজির করলো।
-" তুমি তো অামার মোজা বের করে রাখোনি।"
-" এক্ষুনি বের করে দিচ্ছি।"
-" এই দাঁড়াও।"
-" জ্বি?"
-" এভাবে দৌড়াদৌড়ি করছো কেনো? ধীরে সুস্থে কাজ করো।"
-" অাসলে অামি একটু নার্ভাস। কখনো কাউকে সংসার করতে দেখিনি। কাজ কিভাবে গুছিয়ে করতে হয় অামি জানি না। এই প্রথম অাপনি কিছু করতে বলেছেন। অামি চাইনা কোনো ত্রুটি থাকুক।"
-" বসো এখানে।"
-" মোজাগুলো বের করে দেই।"
-" বসতে বলেছি, বসো।"
কফির মগে চুমুক দিচ্ছে সোহান। পাশে বসে অাছে মায়া।
-" কফিটা খুব ভালো হয়েছে।"
-" সত্যি?"
-" নাও, খেয়ে দেখো।"
-" না অাপনিই খান।"
-" শোনো, এতটাও নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। অামি জানি তুমি কাজ পারো না। একদিনে কেউ সংসারের কাজে এক্সপার্ট হয় না। অাস্তে ধীরে সব ঠিক হবে। কাজ করতে করতে পুরোপুরি সংসারী হবে তুমি। ঘরের জিনিস ভাঙবে, তরকারি পুড়বে, হাত কাটবে এরপর পাক্কা হাউজওয়াইফ হতে পারবে। এছাড়া না। তুমি তোমার মতো অাস্তে ধীরে কাজ করো। দেরি হলে হবে। অসুবিধা নেই। বাসায় শামীম রতন অাছে। চাইলে অামি কাজ ওদের দিয়েও করাতে পারবো।"
এতক্ষনের মানসিক চাপটা মনে হয় কিছুটা কমেছে মায়ার। ভয়টা কিছুটা কেটেছে।
-" যাও নাস্তার টেবিলে খাবার সাজাও। অামি কাপড় পাল্টে অাসছি।"
সোহানের প্লেটে খাবার সাজিয়ে চেয়ারে বসে অাছে মায়া। সোহান চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো,
-" তোমার প্লেট কোথায়?"
-" অাপনার কাছ থেকে খাবো। তাই অামার অালাদা করে খাবারের প্লেট নেইনি।"
কথাটা বলে মায়ার মনে হলো অাবদারটা খুবই বাজে হয়েছে। কি মনে করে কথাটা ও বলেছে সেটা ও নিজেও জানে না। সোহান মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে অাছে। এবার মায়ার লজ্জা লাগছে নিজের এমন বুদ্ধিহীন অাবদারের জন্য। কোনো কথা না বলে নিজের জন্য প্লেট সাজাতে লাগলো মায়া।
-" এই, তুমি না বললে অামার হাতে খাবে?"
-" না, থাকুক। অামি অামার হাতেই খাবো।"
-" কেনো?"
-" অাসলে অামি কেনো যেনো এমন একটা অাবদার ধরে ফেলেছি।"
-" গতরাতে অামি চলে অাসতে চেয়েছিলাম। অামাকে জড়িয়ে ধরার অাবদারটা কিন্তু তুমি করেছিলে। তখন লজ্জা পাওনি, এখন এই সামান্য কথায় লজ্জা পাচ্ছো কেনো? অাজাইরা ঢং ছাড়ো। নাও হা করো।"
মায়ার মুখের সামনে খাবার ধরে রেখেছে সোহান।মায়া মুখের মধ্যে খাবার পুরে চুপচাপ চাবাচ্ছে।
-" মায়া।"
-" হুম?"
-" রাতটা সুন্দর ছিলো।"
মায়ার ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটে উঠলো। সোহানের দিকে তাকিয়ে মায়া উত্তর দিলো
-" অনুভূতিগুলো অারো বেশি সুন্দর ছিলো।"
(চলবে)
Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

নষ্ট_গলি পর্ব-৯ [Red Light area No 9]

#নষ্ট_গলি
পর্ব-৯


লেখা-মিম
রেস্টুরেন্টে বসে অাছে মায়া অার সোহান। গরম ধোঁয়া উঠা স্যুপে একটু একটু করে চুমুক দিচ্ছে সোহান। অার মায়া চামচ দিয়ে স্যুপ নাড়াচাড়া করছে।
-" না খেয়ে কি ভাবছো? খাওয়া শেষ করে এরপর চিন্তা ভাবনা করো।"
-" অাপনি সবাইকে একথা কেনো বলছেন অামি অাপনার বউ?"
-" তোমাকে তো অামি প্রথমদিনই বলেছি তুমি অামার বউয়ের মতো অামার কাছে থাকবে।"
-" অামি বউয়ের মতো করে থাকবো কিন্তু বৌ না। বৌয়ের মতো অার বৌ তো এক ব্যাপার হলো না।"
-" তাহলে তুমি কি চাচ্ছো? তোমাকে বৌ হিসেবে পরিচয় না করাই?"
-" সেটা বলিনি। অামি বলছি যে অাজীবন তো অার অামাকে অাপনার কাছে রাখবেন না। কিছুদিন পর বিয়ে শাদী করবেন। সংসার হবে অাপনার। তখন তো অার অামার প্রয়োজন পড়বে না। তখন লোককে কি বলবেন? তাছাড়া লোকমুখে অাপনার সত্যিকারের বউ তো জেনেই যাবে অাপনি অাগে বিয়ে করেছিলেন।"
-" তোমাকে কে বললোষঅামি অন্য কাউকে বিয়ে করবো? সংসার করবো? সংসার করার জন্যই তো তোমাকে ধরে এনেছি। নতুন করে অাবার অন্য কাউকে ধরে অানার কি হলো?"
-" তবুও......."
-" তোমাকে অামি অামার ওয়াইফ হিসেবে ইনট্রোডিউস করাচ্ছি এটা কি তোমার ভালো লাগছে না? না লাগলে বলো অার কখনো বলবো না"
-" সেটা বলিনি। বলছি যে লোকে কি বলবে?"
-" শোনো লোকের ধার অামি ধারি না। কে কি বললো না বললো সেসব নিয়ে অামি ভাবি না। তুমি কি চাও সেটা বলো? বউ হিসেবে পরিচিতি পেতে চাও নাকি মিসট্রেস হিসেবে?"
-" অাপনি যেভাবে ডাকতে চান সেভাবেই চলবে।"
-" ব্যস এটা নিয়ে অার কোনো তর্ক হবে না। চুপচাপ খাও।"
রাতে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে চুপচাপ শুয়ে অাছে মায়া । সোহানের মতিগতি মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে ওর। কি থেকে কি ঘটছে বুঝে উঠতে পারছেনা ও। এখন পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেনা সোহান। তাহলে ওকে এখানে এনেছে কেনো? সাজিয়ে রাখার জন্য? ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লো মায়া। খাটে এপাশ ওপাশ করছে সোহান। ঘুম অাসছে না ওর। কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে ভালো লাগতো। মায়া তো অাছে। ওকে ডাকলেই তো হয়। মায়ার রুমে এলো সোহান। ঘুমুচ্ছে মেয়েটা। কত্ত অারামের ঘুম। সোহান ছটফট করছে অার মায়া ঘুমাচ্ছে সেটা কি করে হয়? মায়াকেও জাগতে হবে। মায়ার কাঁধে অালতো করে ধাক্কা দিচ্ছে সোহান।
-" এই উঠো।"
-"............."
-" মায়া.... এই মায়া উঠো।"
ঘুর থেকে লাফিয়ে উঠে বসলো মায়া।
-" হুম? জ্বি? কোনো সমস্যা?"
-" অারে ভয় পাচ্ছো কেনো? অামি এসেছি।"
-" হুম বুঝেছি তো।"
-" ঘুম অাসছে না। মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও তো।"
মায়ার পায়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো সোহান। সোহানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মায়া।
-" মায়া....."
-" হুম।"
-" অামাকে তোমার কেমন লাগে?"
-" খুব ভালো।"
-" জানো শুরুতে সবাই এই কথাই বলে। যখন অামার রাগটা দেখে তখন অামার সাথে অার কেউ মিশতে চায়না। যারা মিশে তারা প্রয়োজনে মিশে অামার সাথে। একদিন হয়তো রাগের মাথায় তোমাকেও গালি দিবো। এরপর তুমিও অামাকে খারাপ ভাববে।"
-" অামি গালি শুনে অভ্যস্ত।"
-" যারা তোমাকে গালি দিয়েছে তাদের তুমি অাগে থেকেই খারাপ জানতে। কিন্তু তুমি তো অামাকে ভালো মনে করো। পরে যখন অামার মুখে গালি শুনবে তখন তোমার ঠিকই খারাপ লাগবে।"
-" যখন গালি দিবেন তখন না হয় বুঝবো।"
--" একটা কথা বলি?"
-" হুম।"
-" তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই?"
-" অাপনার ইচ্ছা।"
-" তোমার কোনো ইচ্ছে নেই?"
-" অামাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা নামের কিছু নেই।"
-" তোমাকে অামি অামার ওয়াইফ হিসেবে ট্রিট করছি মায়া। প্রস্টিটিউট হিসেবে না। সো তোমার ইচ্ছাটা অামার জন্য অনেক বড় কিছু ম্যাটার করে।"
-" যদি না করি?"
-" অামার রুমে চলে যাবো।"
-" অাপনি এখানেই ঘুমাবেন। অামার সাথে।"
-" তাহলে তুমি অামাকে পারমিশন দিচ্ছো?"
-" হুম দিচ্ছি।"

মায়ার পায়ের উপর থেকে সরে বালিশে এসে শুয়ে পড়লো সোহান। মায়াকে টেনে নিলে নিজের বুকে। সোহানের সবকিছু ভালো লাগে মায়ার। বিশেষ করে মায়ার প্রতি যে সম্মানটা দেখায় সেটা মায়ার খুব পছন্দ। প্রতিটা মানুষেরই কোনো না কোনো খারাপ দিক থাকে। সোহানেরও অাছে। রাগটা না হয় তার একটু বেশি রেগে গেলে মুখে লাগাম থাকে না। সে তো মানুষ। ফেরেশতা তো অার না। এমন লোকের সাথে চোখ বন্ধ করে সারাজীবন পাড়ি দেয়া যায়। তাহলে ঐ তিনটা মেয়ে কেনো ওকে ফেলে চলে গেলো। একটা বাজে দিকের জন্য কি মানুষটার বাকিসব ভালো গুনগুলো তাদের কাছে ধামাচাপা পড়ে গেলো? সম্মান....। মায়ার কাছে শব্দটা প্রচন্ড রকমে ভারী মনেহয়। সম্মান কখনো সে কারো কাছে পায়নি। তাই কথাটা তার কাছে খুব মূল্যবান। অাঠারো বছরের জীবনে প্রথম কোনো পুরুষ ওকে সম্মান দিচ্ছে। এতকাল যারা অসম্মান করতো তারাও পুরুষ ছিলো। অার এখন যে সম্মান দিচ্ছে সেও একজন পুরুষ। তার প্রগি ঘৃনা বা ক্ষোভ জন্মায় না। জন্মায় ভালোবাসা,শ্রদ্ধা। সোহানের প্রতিটা ব্যাপারের প্রতি প্রেমে পড়ে যাচ্ছে মায়া। নিজেকে কোনোভাবেই অাটকাতে পারছে না। সে ভালো করেই জানে প্রেম ভালোবাসার অধিকার তাদের নেই। তবু ভালোবাসাটা তৈরী হচ্ছে। হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশ করার ক্ষমতা বা অধিকার কোনোটাই তার নেই। কিন্তু ভালোবাসাটা মনের ভিতর তো চেপে রাখা যেতেই পারে। মুখে না অানলেই হলো। এমন মানুষকে কি ভালো না বেসে অাদৌ থাকা সম্ভব? মানুষটার বুকের ধুক-ধুক শব্দ শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে সোহানের হৃদস্পন্দেরও প্রেমে পড়ে যাচ্ছে সে। অাচ্ছা এই ভালোবাসার পরিনতি কি হতে পারে? ভালো পরিনতি হবে না সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত মায়া । সামনে খুব বড়সড় একটা ধাক্কা সে খাবে এই ভালোবাসার বিনিময়ে এটা তার খুব ভালো করেই জানা অাছে। তবু ভালোবাসাটা বেড়ে চলছে। হোক না খারাপ পরিনতি, তাতে কি? জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এখানে অাসার অাগ পর্যন্ত তো খারাপের মাঝেই অাটকে ছিলো। নতুন করে নাহয় অাবার খারাপ কিছু হবে। এতে তার কিছু অাসে যায় না। একটা সময় হয়তোবা সোহান ওকে চলে যেতে বলবে। তখন হয়তোবা ওর প্রয়োজনটা অার সোহানের কাছে থাকবে না। তবু ওকে ভালোবাসবে মায়া। এখন কাছ থেকে ভালোবাসে তখন নাহয় দূর থেকে ভালোবাসবে। মায়া ভালোবাসতে জানে। যে ভালোবাসতে জানে , সে কাছে থেকেও ভালোবাসতে জানে দূর থেকেও ভালোবাসতে জানে।
(চলবে)
Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

#নষ্ট_গলি পর্ব-৮ [Red Light area No 8]

#নষ্ট_গলি
পর্ব-৮


লেখা-মিম

খুব ভোরে ঘুম ভেঙেছে মায়ার। চোখ মেলে দেখে সোহানের পায়ের উপর ওমাথা রেখে শুয়ে অাছে। অার সোহান হেলান দিয়ে বসে ঘুমুচ্ছে। ঘুম ভাঙার পরও সেখান থেকে সরছিলো না মায়া। ভালো লাগছে এভাবে ওর পায়ের উপর মাথা রেখেশুয়ে থাকতে। গতরাতে গল্প করতে করতে কখন ও ঘুমিয়ে পড়েছে সেটা ওর নিজের জানা নেই। হয়তোবা সোহানও কথা বলতে বলতেই ঘুমিয়ে পড়েছে। সোহানের মুখের দিকে তাকিয়ে অাছে মায়া। মানুষটা দেখতে সুন্দর। বিশেষ করে মাথার চুলগুলো। একদম সোজা চুল। একটুও কোঁকড়া না। মাথার চুলগুলো ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে মায়ার। ধরাটা কি উচিত হবে? সোহান গতকাল বলেছিলো হুট করে কারো গায়ে হাত দেয়াটা তার অপছন্দ। তাহলে নিশ্চয়ই এভাবে চুলে হাত দেয়াটাও সে পছন্দ করবে না। অার ও যে এভাবে শুয়ে অাছে এটা কি ঠিক হচ্ছে? বোধহয় না। সোহান ঘুম থেকে উঠে যদি দেখে মায়া এভাবে ওর পায়ের উপর শুয়ে অাছে তাহলে নিশ্চয়ই খারাপ ভাববে। নাহ এভাবে শুয়ে থাকাটা ঠিক হবে না। উঠে যাওয়াটাই ভালো হবে।
ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখে সোহান রুমে নেই। বোধহয় ঘুম থেকে উঠে চলে গেছে নিজের রুমে। ফুলগাছগুলোর কাছে গেলো মায়া। সাদা গোলাপের গাছটায় একটা নতুন কলি এসেছে। দু তিন দিন বাদেই বোধহয় ফুটবে কলিটা। গত পরশু থেকে একটা কথা মাথায় বারবার ঘুরছে। সেটা হচ্ছে সংসার। সংসার শুরু করতে হবে মায়াকে। অাচ্ছা সংসার কি?সংসার কেমন হয়? এ ব্যাপারে কিছুই জানে না মায়া। তবে নতুন এক অনুভুতির সাথে পরিচিত হচ্ছে সে। সংসার নামক অনুভূতি। গত পরশু থেকে অনুভূতিটা পাচ্ছে ও।  অনুভূতিটা বড্ড অদ্ভুদ। ভয় এবং ভালোবাসার সংমিশ্রনে তৈরি অনুভূতি। তবে ভয়ের চেয়ে ভালোলাগার অনুভূতিটাই বেশি। অায়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মায়া। সংসারি মেয়ে মানে গৃহিনীদের দেখতে কেমন দেখা যায়? গৃহিনীদের দেখলে চট করে লোকে বলে দিতে পারে মেয়েটা একজন গৃহিনী। নাকটা ফুটো করা নেই ।মায়ার হাতে চিকন একজোড়া চুড়িও নেই। গৃহিনী হতে গেলে তো নাকে ফুল অার হাত একজোড়া চুড়ি থাকতে হবে। লোকটা বলেছিলো অাজ থেকে যা কিছু প্রয়োজন  সব ওর কাছে চাইতে। সোহানকে কি বলবে কিনে দিতে? বলাটা কি উচিত হবে? নাহ। সেসব বলা যাবে না। সোহান ওকে লোভি ভাবতে পারে।
-" অায়নায় নিজেকে খুঁটে খুঁটে কি দেখছো?"
পিছনে ফিরে তাকালো মায়া। দুহাতে দুটো মগ হাতে ঘরে ঢুকছে সোহান।

-" নাও তোমার লাল চা।"
হাত বাড়িয়ে মগটা নিতে নিতে খাটে বসলো মায়া। পাশেই পা ঝুলিয়ে বসেছে সোহান।
-" বললে না তো অায়নায় ওভাবে কি দেখছিলে?"
-" নাহ তেমন কিছু না।"
-" তোমাকে তো দেখলাম গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছু ভাবছিলে অায়নায় তাকিয়ে? কিছু হয়েছে?"
-" না কিছু না।"
-" কিছু বলতে চাও অামাকে?
-" না না। কিছু না।"
-" বলতে চাচ্ছো না। ঠিকাছে। জোর করবো না। চা ভালো হয়েছে?"
-" হুম।"
-" কাল থেকে তুমি অামার জন্য কফি বানাবে। অার অাস্তে অাস্তে অামার সমস্ত ব্যাপারগুলো খেয়াল দেয়া শুরু করো। অামি অফিস যাওয়ার অাগে অামার কাপড় তুমি সিলেক্ট করবে। সারাদিনে কয়েকবার অামাকে ফোন দিয়ে অামার খোঁজ নিবে। ঘরের বাজার থেকে শুরু করে কারেন্ট বিল পর্যন্ত সমস্ত হিসাব তুমি দেখবে। ঘরে কখন কি রান্না হবে সেগুলো তোমার ফরমায়েশ অনুযায়ী হবে। ঘরে যদি নতুন কোনো ফার্নিচার প্রয়োজন মনে করো তাহলে অামাকে বলো অামি কিনে দিবো।"
-" অাচ্ছা।"
-" অাজকে অফিস যাবো না। তোমাকে নিয়ে স্কুলে যাবো তোমার এডমিশনের ব্যাপারে কথা বলতে। কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিলে তুমি?"
-" এইট পর্যন্ত। নাইনে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু ক্লাস অার করতে পারিনি।
-" ঠিকাছে। ইংলিশে কেমন ছিলে তুমি?"
-" হুম ভা......."
কথাটা শেষ করার অাগেই ফোন বেজে উঠলো মায়ার। ফোনটা রিসিভ করলো মায়া। ওপাশ থেকে ফুপিয়ে কাঁদার শব্দ পাচ্ছে ও।
-" কাঁদো কেনো অাম্মা?"
-" কাজলের একটা মাইয়্যা হইছিলো গতকাল রাইতে। বড় হয়া ওরেও বেশ্যাগিরি করতে হইবো এর লাইগা
কাজল ওরে মাইরা ফালাইছে।জানোস মায়া ঐটুক মাইয়্যাডার গলায় জল্লাদটা ব্লেড দিয়া কাটছে। বাচ্চাটা একটা চিৎকার দিয়া কতক্ষন ছটফট করছে এরপর মইরা গেলো। "
দম বন্ধ হয়ে অাসছে মায়ার।দুচোখ বেয়ে অঝরে পানি ঝড়ছে। সোহান কফি খাওয়া বাদ দিয়ে মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে অাছে।
-" এখন অামার কি মনে হইতাছে জানোছ? তোরেও ছোট থাকতে মাইরা ফেলার দরকার ছিলো। তাইলে তোরে অাজকা বেশ্যা হইতে হইতো না। অামাগো জিন্দেগিটা অনেক খারাপ রে মায়া। এই জিন্দেগি করার চেয়ে মইরা যাওন ভালো। অামারও মইরা যাওয়াউচিত অাছিলো। কিন্তু সাহস করতে পারি নাই। মরতে গেলে অনেক সাহস লাগে।"
-" বাচ্চাটা কি মাটি দিয়ে দিছে?"
-" হ ভোরে মাটি দিছে।"
অার কথা বাড়ালো না মায়া ফোনটা কেটে দিলো।  মায়ার মাথায় হাত রেখে সোহান বললো,
-" কি হয়েছে মায়া? কেউ কি মারা গেছে?"
মায়া কাঁদছে। কোনো উত্তর দিচ্ছে না। সে বুঝতে পারছে এখন ওকে কাঁদতে দেয়া উচিত। খানিকক্ষন বাদে না হয় ওকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা যাবে। সোহান লক্ষ্য করলো মায়া ওর হাত চেপে ধরে কাঁদছে। মায়াকে জড়িয়ে ধরলো সোহান। ওর মাথায় খুব অাস্তে করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষন বাদে মায়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো সোহানের বাহুডোর থেকে। কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে মায়া।
-" অামাকে কি বলা যায় কি হয়েছে?"
-" অামার পাড়াতে একটা অাপা ছিলো। কাজল অাপা। উনি প্রেগনেন্ট ছিলেন। গতরাতে উনার মেয়ে হয়েছিলো। উনি মেরে ফেলেছে মেয়েটাকে।"
-" কেনো মেরেছে জানো? কারন ও চায়নি ওর মেয়েটারও ওর মতো হাল হোক।"
-" অাপনি কিভাবে জানেন?"
-" এমন গল্প অামি অাগেও শুনেছি। এমন ঘটনা অারও দুজন ঘটিয়েছিলো।"
-" একদিকে ভালোই হয়েছে। অামাদের মতো বাচ্চাটাকে একটুএকটু করে শেষ হতে হবে না। মরার অাগেই নরকের শাস্তি ভোগ করতে হয় অামাদের। মাঝে মাঝে এমন কিছু কাস্টমার অাসে এদের অাচরন দেখলে মনেহয় অামরা মুরগি অথবা খাসীর রানের পিস। মনের খায়েশ মিটিয়ে শরীরের যেখানে সেখানে কামড়াতে থাকে। একবার তো এক কাস্টমারের কামড়ে অামার হাতে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিলো। দাগ এখনও যায়নি। এমন জীবন কাটানোর চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। উচিত কাজ করেছে কাজল। ওর জায়গায় অামি হলে ঠিক এই কাজটাই করতাম।"
-" পানি খাবে?"
-" না।"
-" যা হয়ে গেছে তা তো বদলাতে পারবে না মায়া। সামনে দেখি তোমাদের মতো মানুষের জন্য কিছু করতে পারি কিনা।"
কথাটা বলেই সেখান থেকে সরে গেলো সোহান। সেখানে অার বসতে ইচ্ছে হচ্ছে না তার। কারো কষ্ট সহ্য করতে পারে না সে। তবে মনের কষ্ট মনে রাখতেই ভালোবাসে। লোকের সামনে প্রকাশ করাটা তার কাছে খুবই লজ্জাজনক মনে হয়। সবারসামনে ভাবখানা এমনদেখায় মনে হয় কিছুই হয়নি ।
অাজ দুপুরে মায়াকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে এসেছে সোহান। ওর জন্য দুটো টিচার রাখা হয়েছে। বিকালে একজন পড়িয়ে গেছে। এখন অারেকজন পড়াচ্ছে। কিছুক্ষন অাগে অফিসের একজন স্টাফ এসেছে সোহানের বাসায়। অার্জেন্ট কিছু ফাইল সিগনেচার করাতে এসেছেন তিনি। ড্রইং রুমে বসে সোহান ফাইল দেখছে অার স্টাফ সাঈদ মায়ার রুমে একনজরে তাকিয়ে অাছে। ব্যাপারটা চোখে পড়লো সোহানের।
-" ওদিকে কি দেখছেন সাঈদ সাহেব?"
-" স্যার এই মেয়েটা কি হয় অাপনার?"
-" অামার ওয়াইফ। কেনো?"
-" এটা ওয়াইফ?"
-" কোনো সমস্যা?"
-" স্যার অাপনি ভালো করে খোঁজ নিয়ে বিয়ে করেছেন তো?"
-" হ্যা করেছি।"
-" এটা কি করে হয়? স্যার অাপনাকে বোধহয় মিথ্যা ফলে বিয়ে করেছে এই মেয়ে।"
-" সমস্যাটা কি সেটা তো বলবেন।"
-" এ তো.... ইয়ে মানে.... এই মেয়েটা প্রস্টিটিউট স্যার।"
-' অাপনি জানেন কিভাবে?"
-" অামি ওদের ওখানে প্রায়ই যাই। ও ভালো না স্যার।"
-" অাপনি ভালো?"
-" জ্বি?"
-" জিজ্ঞেস করলাম অাপনি ভালো কি না? ভাব তো এমন দেখাচ্ছেন মনে হচ্ছে অাপনি পবিত্র পুরুষ। একটা মেয়ে প্রস্টিটিউট হয় কিভাবে জানেন? একটা পুরুষের সাথে টাকার বিনিময়ে এক বিছানায় শুয়ে। এক মেয়ে অারেক  মেয়ের সাথে ঘেষাঘেষি করে তো  অার প্রস্টিটিউট হয়নি। অাপনার মতো অতিমাত্রার পবিত্র পুরুষের সংস্পর্শে এসেই এরা প্রস্টিটিউট হয়। অার অামি নিজে ওকে ঐ পাড়া থেকে তুলে এনেছি। ঐ পাড়ায় তো ভালো লোক যায় না। যায় খারাপ লোকেরা। তারমানে অামিও খারাপ। ওর অার অামার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই সাঈদ সাহেব। তবে অাপনার ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। অাপনার বউটা কিন্তু খুব ভালো। কিন্তু অাপনি?"
-" স্যার অাজ অামি অাসি। বাসায় যেয়ে বাকি কাজটা কমপ্লিট করতে হবে।"
কথাটা বলে সাঈদসাহেব ফাইল হাতে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। পিছন থেকে সোহান ডেকে বললো,
-" সাঈদ সাহেব, অাজকের কথাগুলো অাপনার অামার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেই খুশি হবো।"
-" জ্বি স্যার। কথা বাহিরে যাবে না।"
মায়ার রুমে যেয়ে ওর নতুন টিচারকে সোহান জিজ্ঞেস করলো,
-" স্টুডেন্ট কেমন মাহিন?"
-" বেশ শার্প। এত অাগের পড়া গ্রামারগুলো এখনও মুখস্ত রেখেছে। একবছর প্র্যাক্টিস না করলেই সাধারনত মনে থাকে না। কিন্তু ও দেখছি সবমনে রেখেছে।"
-" কি মনে হয়? মাস দুই তিনেকের মধ্যে দৌড়ে ইংলিশ বলতে পারবে তো?"
-" অাশা করছি হবে।"
-" পড়ানো শেষ?"
-" না অারো পনেরো বিশ মিনিট লাগবে।"
-" অাজকে ওকে ছুটি দিয়ে দাও। একটু বাহিরে যাবো।"
-" জ্বি ভাইয়া।"
-" মায়া, যাও গিয়ে রেডি হও। অামি ওর সাথে কথা বলি।"
-" ভাইয়া বিয়ে করলেন, অথচ কিছুই জানালেন না?"
-" রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হুট করে দেখলাম একটা সুন্দর পরী পৃথিবীর রাস্তায় হাটাহাটি করছে। অামি ভাবলাম ডানা ভেঙে পড়ে টরে গেলো কিনা। দৌড়ে গেলাম হেল্প করতে। যেয়ে বললাম, অাপনার ভাঙা ডানাটা কোথায় পড়েছে বলেন। অামি এনে জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছি। মেয়ে তো অামার মুখের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে অাছে। চিন্তা করলাম পৃথিবীতে নতুন তাই হয়তো অামাকে উদ্ভট লাগছে। ফের বলতে লাগলাম, অাপনি তো পরী। ডানা ছাড়া বেশিক্ষন থাকলে ঝামেলা হতে পারে। জলদি বলুন ডানা কোথায়? কিছুক্ষন পর পরী মুখ খুলে বললো, সে নাকি পরী না। সে মানুষ। অামাকে অার পায় কে? পরদিনই ধরে বেঁধে ওকে বিয়ে করে ফেলেছি।"
-" হা হা হা। জানিনা কতটুক সত্যি বলেছেন। তবে গল্পটা মজার ছিলো।"

-" শোনো বিয়ের বয়স হয়েছে অামার। অার কত একা ঘুমাবো? অফিস থেকে ঘরে ফিরলে ঘরটা খালি লাগে। তাই মেয়ে পছন্দ হওয়ার সাথে সাথে বিয়েটা করে ফেললাম।"
দরজার অাড়াল থেকে কথাগুলো শুনেছে মায়া। কাপড় হাতে নিয়ে সোহানের রুমে যাচ্ছে অার ভাবছে, সোহান সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে ও সোহানের বউ। কাজটা কি ঠিক করছে সোহান?
(চলবে)

Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

নষ্ট_গলি পর্ব-৭ [Red Light area No 7]

#নষ্ট_গলি
পর্ব-৭


 লেখা-মিম

সোহান মায়ার প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। খুব সুন্দর ঘ্রান বেরোচ্ছে খাবার থেকে।
-" মায়া, নাও শুরু করো।"
-" অাপনি খাবেন না?"
-" হ্যা খাবো তো। এই যে অামার প্লেটে খাবার বাড়ছি।"
প্রথম লোকমা মুখে তুলেই তিন চার সেকেন্ড থমকে ছিলো মায়া।
-" কি ব্যাপার? খাবার মুখে নিয়ে বসে অাছো কেনো?"
-" অসম্ভব ভালো হয়েছে।"
-" তোমাকে বলেছিলাম না অামি একটা মেয়ে মানুষের চেয়েও বেশি ভালো রাঁধতে পারি।"
-" হুম তাই তাো দেখছি।"
-" নেক্সট উইক তুমি রান্না করে খাওয়াবে। অামি যাস্ট তোমাকে এটা সেটা এগিয়ে দিয়ে হেল্প করবো। কিন্তু রেসিপিটি বলবো না।"
-" ঠিকাছে।"
-" কাল থেকে প্রতিদিন তোমাকে একটা দুটা করে রান্না শিখাবো। "
-" অাপনি ব্যস্ত মানুষ। অাপনার কি সময় হবে রান্না শিখানোর?"
-" এসব অামি তোমার জন্য না যতটুকু করছি তারচেয়ে বেশি করছি অামার নিজের জন্য। অামি মানুষটা খুব একা। তোমার সাথে সময় কাটাতে পারলে অামার ভালো লাগবে।"
এতদিন মায়ার ধারনা ছিলো টাকা থাকলেই বুঝি সব সুখ পায়ের কাছে পড়ে থাকে। ধারনাটা পুরোপুরি ভুল। টাকা থাকলেও মানুষের মনে কষ্টথাকে। একাকিত্বের কষ্ট টাকায় ঘুঁচে না।
-" অাপনার তো এত টাকা। তবু অাপনি একা কেনো? পয়সাওয়ালা লোকের পিছনে তো মেয়েদের লাইন লেগে থাকে।"
-" সমস্যাটা তো সেখানেই মায়া। সব টাকার পিছনে ছুটে। অামার পিছনে ছুটে না।  টাকা অাছে তো  অামার অস্তিত্ব অাছে, টাকা নেই তো অামার অস্তিত্বও নেই। মন থেকে কেউ কাছে টানে না। একটাবার কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে না, সোহান তুই ভালো অাছিস তো?"
কষ্ট হচ্ছে সোহানের জন্য। এত টাকা থেকে লাভ কি যদি না কেউ সুখের দেখা না পায়?

কিছুক্ষন অাগে কাজলের সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখেছে। মেয়ে হয়েছে তার। রুমে বসে থাকা দাই বাদে বাকি সবার মুখ কালো। মেয়ের অাশা তারা কেউ করেনি। বিউটি কুসুমকে নিয়ে বুদ্ধি বের করছে কিভাবে এই বাচ্চাকে এখান থেকে সরানো যায়। দাইকে না হয় টাকা পয়সা খাইয়ে মুখ বন্ধ করানো যাবে। কিন্তু ফখরুল? ওকে কি করবে? ও গো ঘরের বাইরে পায়চারি করছে। মেয়ের ছোট অাঙুলগুলো ধরে কাঁদছে কাজল। মেয়ে হওয়ার কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো? এখান থেকে বাচ্চাটাকে বের করার কোনো উপায় নেই। কাজল চায়না ফের এই গলিতে কোনো মায়া অথবা কুসুম অথবা চুমকি তৈরী হোক। এই মেয়েগুলো জন্মসূত্রে পতিতা। অারও এমন অনেক অাছে এখানে যারা জন্মসূত্রে এই ব্যবসায়ী। কাজল দেখেছে তাদের মায়েদের চাপা কান্না যখন তাদের মেয়েদের ঐ লোকগুলোর হাতে একা রুমে তুলে দেয়া হতো। সবচেয়ে কম বয়সে কাজে লাগানো হয়েছিলো কুসুমকে। মাত্র বারো বছর ছিলো মেয়েটার। অাটাশ বছর বয়সী কোনো এক যুবকের তৃষ্ঞা মেটাতে তাকে পাঠানো হয়েছিলো এই বাড়ির পূর্ব দিকের ঘরটাতে। ঘরের ভিতর চিৎকার করছিলো কুসুম অার বাহিরে ওর মা। ওদের চিৎকারে চারপাশ ভারী হয়ে যাচ্ছিলো। অতটুকুন মেয়ে, যার বয়স ছিলো দুই বেনি করে বাড়ির উঠানে খেলার, সেই মেয়েকে পাঠানো হয়েছিলো কোনো এক দানবের ভোগের বস্তু হওয়ার জন্য। হ্যা দানব, সেই অাটাশ বছরের যুবকটাকে সেদিন কুসুমের কাছে দানব ছাড়া অার কিছুই মনে হয়নি। মানুষ খেঁকো দানব। না, মানুষ খেঁকো না শরীর খেঁকো দানব। টানা চার ঘন্টা কুসুমের উপর দিয়ে কোন তুফান গিয়েছিলো সেটা মনে হলে কুসুম এখনও ঘোরের মাঝে লাফিয়ে উঠে। মায়ারও একই হাল হয়েছিলো। তবে ওর বয়সটা একটু বাড়তি ছিলো যখন ওকে ধান্দায় নামানো হয়। সম্ভবত চৌদ্দ কি সাড়ে চৌদ্দ ।ওকে এক প্রকার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কাস্টমারের কাছে। কাজলের মেয়েরও একদিন এমন পরিস্থিতি অাসবে, কুসুমের মায়ের মতো তাকেও একদিন মেয়ের রুমের বাইরে বসে তার বাচ্চার অার্তচিৎকার শুনতে হবে। এসব সহ্য করার মতো ক্ষমতা তার নেই। খাটের পাশে থাকা ড্রেসিং টেবিলটার উপর ধারালো ব্লেড চিকচিক করছে। কিছুক্ষন অাগেই এই ব্লেডটা দিয়ে নাড়ি কেটে অালাদা করা হয়েছে ওর সন্তানকে। খুব ধীরে ধীরে উঠে বসলো কাজল। দাই, বিউটি অার কুসুম মিলে খুব ধীর অাওয়াজে কি যেনো বলা বলি করছে। টেবিলের উপর থেকে ব্লেডটা হাতেনিলো কাজল। খুব অাস্তে করে মেয়ের গলায় ব্লেডটা দিয়ে শুধু একটা অাঁচড় কাটলো। যে ব্লেড দিয়ে নাড়ি কাটা হয়েছিলো সেটা দিয়েই নিজ সন্তানের গলার রগ কাটলো কাজল। বাচ্চাটা জোরে একটা চিৎকার দিয়ে থেমে গেলো। অার কোনো অাওয়াজ তার গলা থেকে অাসছে না। কিছুটা ছটফট করছে সে। কচি হাত পা গুলো এদিক সেদিক ছড়াচ্ছে। একটা পর্যায়ে চার হাত পা লম্বা করে টেনে নিঃশ্বাসটা পুরোপুরি ছেড়ে দিলো বাচ্চাটা। এতক্ষন বাকি তিনজন চোখ বড় করে বাচ্চাটার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। বাচ্চার চিৎকার শুনে তিনজনই তাকিয়ে ছিলো বাচ্চার দিকে। তাকিয়ে দেখে কাজলের হাতে রক্তমাখা ব্লেড অার বাচ্চার গলায় রক্ত। ঘটনা চোখের সামনে একদম স্পষ্ট ছিলো তবু তাদের কাছে অস্পষ্ট লাগছিলো। সামনে এগিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী এক শিশুকে অাগলে নিতে সাহস হচ্ছিলো না তাদের। নিঃশ্বাস ত্যাগের পর ঘোর কাটলো কুসুমের। কাজলের মুখে মাথায় এলোপাথারি চড় থাপ্পর দিচ্ছে সে।
-" ** কি করলি তুই এইডা? ঐ *** মারলি কেন মাইয়্যাডারে তুই?"
-" মইরা গিয়া বাঁইচা গেছে অামার মাইয়্যা। অামাগো মতো পইচা মরতে হইবো না ওর।"
কাজলের চোখেমুখে বিন্দুমাত্র কষ্টের ছোঁয়া নেই। ওর চেহার স্বস্তির শান্তি দেখা যাচ্ছে।
রাতে ঘুমানোর অাগে কফি খাওয়ার অভ্যাস অাছে সোহানের। গরম কফির মগে চুমুক দিচ্ছে অার টিভি দেখছে। মায়া নিজেকে প্রস্তুত করছে সোহানের জন্য। মানুষটা এখন পর্যন্ত ওর গায়ে হাত দেয়নি। হতে পারে অসুস্থ ছিলো তাই। অাজ নিশ্চয়ই ওকে বসিয়ে রাখবে না তার অধিকারটা চাইতে অাসবে নিশ্চয়ই। ইতিমধ্যে জোনাকিকে পঞ্চাশ হাজার দেয়া হয়ে গেছে। অার ওরপিছনে অনেক টাকাই খরচ করেছে সোহান টাকাগুলোতো এমনি এমনি অার খরচ করেনি। এগুলো তো সে অবশ্যই উসুল করবে। খানিকটা সেজেগুজে সোহানের পাশে যেয়ে বসলো মায়া। ওর দিকে একনজর দেখেই পরক্ষনে মুখ ফিরিয়ে টিভির স্ক্রিনে নিয়ে গেলো সোহান। টিভিরদিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো,
-" ফুল প্রিপারেশন নিয়ে এসেছো মনে হচ্ছে।"
-" ..............."


-" দেখো, হুট করেই কারো গায়ে হাত দেয়াটা অামার পছন্দ না। এখানে এসেছো। কিছুদিন থাকো। দুজন দুজনকে বুঝি এরপর নাহয় দেখা যাবে।"
-" অাপনি তো অনেকগুলো টাকা দিয়ে এসেছেন।"
-" তো?"
-" টাকা উসুল করবেন না?"
-" দেখো অামি কিন্তু তোমাকে এখানে শুধু ফিজিক্যাল রিলেশনের জন্য অানিনি। তোমাকে এখানে অানার মূলউদ্দেশ্য হচ্ছে একাকিত্বটা দূর করা। অামার টাকা উসুল করা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। অামার টাকা কিভাবে উসুল করবো সেটা অামারটা অামি বুঝবো।"
সোহানকে যত দেখছে তত মায়ার বিস্ময়ের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে। এমন মানুষও অাছে নাকি দুনিয়ায়? একটা যুবতি মেয়ে হাতের কাছে এসে ধরা দিচ্ছে অার সে কি না বলছে হুট করে কারো গায়ে হাত দেয়া তার পছন্দ না? সোহানকে বিরল প্রজাতির প্রানী মনে হচ্ছে মায়ার।
-" অামার সাথে একটু কথা বলবে মায়া?"
সোফায় পা উঠিয়ে বসতে বসতে হাসিমাখা মুখে মায়া বললো,
-" অবশ্যই বলবো। একটু কেনো? অনেক অনেক কথা বলবো।"
-" অাঠারো বছর অাগের ঘটনা। অামার রেজাল্ট দিয়েছিলো সেদিন। ফাইনাল এক্সামের রেজাল্ট। ফার্স্ট হয়েছিলাম। অাম্মুকে বলেছিলাম, অামি ফার্স্ট হয়েছি। অামি চিকেন ফ্রাই খাবো। অামাকে চিকেন ফ্রাই করে দাও। অাম্মু বললো চলো তোমাকে বাহির থেকে খাইয়ে নিয়ে অাসি। অামি বললাম, তোমার হাতেরটা খাবো। দোকানেরটা খাবো না। অাম্মু উত্তরে কি বলেছিলো জানো?"
-" কি?"
-" মুরগীতে মসলা মাখাতে গেলে হাতে মসলার দাগ বসে যাবে। মসলার বাজে স্মেল অাসবে হাত থেকে। অহেতুক হাতের চামড়া নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। অামি পাল্টা অারকিছু বলিনি। অাসলে বলার কিছুই ছিলো না। জোর করে তো অার কারো কাছ থেকে ভালোবাসা অাদায় করা যায় না। তাই অামিও অার জোর করিনি। যে ভালোবাসার সে এমনিতেই বাসবে। সোজা ফ্রিজ থেকে মুরগি নামিয়ে মসলা মেখে নিজেই ফ্রাই করেছি। তখন তো রান্না সম্পর্কে বিশেষ অাইডিয়া ছিলো না। ঘরে যত ধরনের মসলা ছিলো সবগুলো থেকে একটু একটু করে দিয়েছি। বানিয়ে এনে সবার অাগে অাম্মুকে দিয়েছি। অাম্মুকিছুক্ষন মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলো।অামি বললাম, খেয়ে দেখো। মুখে নিয়ে বললো খুব ভালো হয়েছে। তখনঅামি বললাম, নাও এই সবগুলো চিকেন ফ্রাই তোমার। মসলার স্মেল অামার হাতেও লেগে অাছে । এই দেখো হাতে হলুদের দাগ ভরে গেছে। কিন্তু অামি তোমার মতো নাক ছিটকাচ্ছি না। অার কখনো তোমাকে বলবো না অামাকে কিছু বানিয়ে খাওয়াও । এখন থেকে নিজেরটা নিজেই বানিয়ে খাবো। তোমার কিছু খেতে ইচ্ছে হলে অামাকে বলো। অামি তোমাকে বানিয়ে দিবো। এরপরদিনই যেয়ে রান্নার বই কিনে এনেছিলাম। প্রতিদিন কিছু না কিছু এক্সপেরিমেন্ট করতাম। কতবার যে হাত পুড়েছি তার কোনো হিসাব নেই।"

-" একদিন রেঁধে খাওয়ালে কি হতো? একদিনে কি অার চামড়া নষ্ট হয়?"
-" উহুম। অামার মা এক সেকেন্ডও চুলার পাশে যেতে রাজি না। সে খুব চামড়া সচেতন মানুষ। প্রতিমাসে কত হাজার টাকা যে পার্লারে খরচ করে অাল্লাহ ভালো জানে। সেই হিসাব বোধহয় অাম্মুর নিজেরও জানা নেই। অাচ্ছা তোমার কি মাথা ব্যাথা করছে?"
-" কিছুটা। অাপনি জানলেন কিভাবে?"
-" তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে। তুমি যাও গিয়ে ঘুমাও।
-"  না একটু গল্প করি না প্লিজ। "
-" মাথাব্যাথা নিয়ে গল্প করার দরকার নেই। মাথাব্যাথা অারও বাড়বে।"
-" অামার ভালো লাগছে অাপনার সাথে গল্প করতে।"
-" অাচ্ছা তাহলে রুমে চলো। শুয়ে গল্প করবে"
মায়ার রুমে বিছানায়বসে অাছে সোহান। পাশে শুয়ে অাছে মায়া। সোহানের হাত ধরে রেখেছে সে। সোহান গল্প বলছে। অার খুব মন দিয়ে সেই গল্প মায়া শুনছে ।

Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......

নষ্ট_গলি পর্ব-৬ [Red Light area No 6]

#নষ্ট_গলিপর্ব-৬


লেখা-মিম

বিকেল হয়েছে। পশ্চিম অাকাশে  সূর্যের তেজ কমে গিয়েছে অনেকটাই। সাদা মেঘে কমলা রঙের অালো ছড়িয়ে পড়ছে। মায়া ফুল গাছগুলোতে পানি দিচ্ছে। সন্ধ্যামালতিগুলো ফুটতে শুরু করেছে। অাজ সকালে সোহান ওর হাতে একটা ফোন দিয়েছে। ফোনটা সোহানের অালমারিতে পড়ে ছিলো। দুপুরের দিকে ড্রাইভারকে দিয়ে সিম কার্ড পাঠিয়েছে। মায়ের সাথে অনেকক্ষন কথা বলেছে ও। মা খুব খুশি। এবার বুঝি তার মেয়ে এই নরক থেকে মুক্তি পেলো। সোহানকে প্রানভরে দোয়া দিয়েছেন তিনি। সোহান বলেছে ঘরটাকে নিজের সংসার হিসেবে অাগলে রাখতে। অাচ্ছা সংসার কিভাবে অাগলে রাখে? মা কে তো কখনো দেখেনি সংসার করতে। মেয়ে মানুষ তো মায়ের কাছ থেকেই সংসার করা শিখে। এখন কি হবে? ওর তো খালা মামিও নেই বা কোনো বড় বোন নেই সংসার করা শিখাবে। তবে কি সংসার সামলানোর ক্ষেত্রে জিরো মার্কস পাবে? না না, জিরো পেলে কি চলবে নাকি? একজন লোক শখ করে ওকে সংসারের দায়িত্ব দিয়েছে। তার শখটা তো পূরন করতেই হবে। কিভাবে সংসার শুরু করা যায়? রান্না করে নাকি ঘর পরিষ্কার করে? অাজ শুরুটা নাহয় রান্না দিয়েই হোক। সোহানকে ফোন করে জিজেস করা দরকার সে কি খেতে চায়? সোহানের নাম্বারে ডায়াল করলো মায়া।
-" হুম মায়া।"
-" ইয়ে বলছিলাম মানে রাতে রান্না করবো। কি রান্না করবো?"
-" তুমি না অসুস্থ?"
-" এখন একটু ভালো অাছি।"
-" এখন রান্না করার দরকার নেই। সুস্থ হও এরপর রান্না করো।"
-" করি না একটু।"
-" কি খেতে ইচ্ছে করছে বলো অামি অাসার সময় নিয়ে অাসবো।"
-" না অামার জন্য না। অাপনার জন্য রান্না করতে চাই। অাপনার প্রিয় কিছু।"
-" অামার জন্য?"
-" হুম।"
-" কিছু করতে হবে না। তুমি এই অসুস্থ শরীরে অামার জন্য কিছু করতে চেয়েছো এতেই অামি খুশি। খুব বেশিই খুশি হয়েছি।"
-" বেশি কিছু করবো না। শুধু একটা পদের কথা বলেন। অামি তাই করবো"
-" এসব জোরাজোরি অামি একদম পছন্দ করি না মায়া। কাজ করছি।  অাজাইরা প্যাচাল বন্ধ করো। যত্তসব ....."
রাগ করে ফোনটা কেটে দিলো সোহান। কি হলো কিছুই বুঝলো না মায়া। পুরো ব্যাপারটা মাথার উপর দিয়ে গেলো তার। মাত্রই না বললো খুব খুশি হয়েছে। তাহলে এমন রাগ দেখালো কেনো? একটু কষ্ট পেলো মায়া। তার কি দোষ? লোকটাই তো বললো এটাকেনিজের সংসার ভাবতে। হতে পারে ব্যস্ত। তাই হয়তো এমনটা করলো।
জোনাকির মুখোমুখি বসে অাছে মায়ার মা বিউটি। জোনাকি পান চাবাচ্ছে অার বিউটির সাথে কথা বলছে।
-" তোর মাইয়্যার তো কপাল খুইল্লা গেছে রে বিউটি।"
-" হ বুবু।"
-" বেডার হাব ভাবে তো লাগতাছে তোর মাইয়্যারে এক্কেবারে তার কাছে রাইখা দিবো। বিয়া-শাদি করবো নাকি? জানোস কিছু?"
-" না তেমন কিছু তো কইলো না।"
-" কেন জানি মনে হইতাছে তুই জানোস। জাইনাও না জানার ভান করতাছোস।"
-" ছিঃ বুবু। কি কন? সত্যিই জানি না অামি।"
-" বুবু.......।"
-" কিরে কুসুম? এমনে হাঁপাইতাছোস ক্যান?"
-" কাজলের ব্যাথা উঠছে। ডাক্তার লাগবো।"
-" এহ্ ডাক্তার লাগবো। ডাক্তার খরচা দিবো কেডা? তোর বাপে? অাজকা সাতমাস ধইরা কাজলের ইনকাম বন্ধ। ওরে উল্টা খাওয়াইতে হইতাছে। ঐ বিউটি যা তো কাজলের কাছে। অার কুসুম তুই ফখরুলরে গিয়া কইবি দাইরে খবর দিতে। অার বিউটি শোন, যদি মাইয়্যা হয় সোজা অামার কাছে নিয়া অাইবি অারযদি পোলা হয় এতিমখানায় দিয়া অাইসা পড়বি। "
-" বুবু মাস দুয়েক মার কাছে থাকতে দেন। দুধের বাচ্চাটা মা ছাড়া কেমনে থাকবো?"
-" ইশশ, পীড়িত কত্ত! এত পীড়িত কই পাস বিউটি? বাচ্চা একটা লগে ঝুলায়া রাখলে কি বেডারা ওর কাছে যাইবো নাকি? মাইয়্যা হইলে না হয় ছাড় দেওন যায়। পোলা হইলে এক চুলও ছাড় দিমু না অামি। ওর পোলার লাইগা কি অামি অামার ধান্দা লাটে উঠামু? বেহুদা কথা বাড়াইস না তো। যা, কাজলের কাছে যা।"
বিউটি দৌড়েগেলো কাজলের রুমে।  ব্যাথায় কোঁকাচ্ছে সে। বিউটি পাশে বসতেই হাত চেপে ধরলো কাজল।
-" বুবু শোনো।"

-" কি রে বইন?"
-" অামার যদি মাইয়্যা হয় তুমি যেমনে পারো অামার মাইয়্যাডারে এইখান থেইকা সরায়া ফালাইবা। ওরা কেউ জানার অাগেই কামডা সারতে হইবো।
-" কেমনে সরামু? ফখরুলরে দেখোস না কারো বাচ্চা হইতে নিলে দরজার বাইরে কেমনে খাড়ায়া থাকে। "
-" তাইলে বুবু বাচ্চারে লবন খাওয়াইয়া মাইরা ফালাইও। অামি চাই না অামার মাইয়্যাডা এইখানে পইচা মরুক। এখানে পইচা মরার চেয়ে একবারে মইরা যাওয়া ভালো।"
-" কি কস পাগল ছাগলের মতো?"
-" ঠিক কইতাছি বইন। নিজে এতকাল পইচা মরছো। তুমি বুঝো না পইচা মরার কষ্ট কি?"
-" অাইচ্ছা দেখি কি করা যায়। তুই অাল্লাহ রে ডাকতে থাক কাজল। কালেমা পড় বেশি কইরা।"
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কাজশেষ করে অফিস থেকে বেরিয়েছে সোহান। গাড়িতে উঠে হুঁশ হলো মায়ার কথা। ব্যবহারটা কি বেশিই খারাপ হয়ে গেলো? ভালো কথাই জানতে চেয়েছিলো মেয়েটা। রাগ না দেখালেও চলতো। এত রাগ সোহানের অাসে কোথ্থেকে সেটা সে নিজেও বুঝে না।
 বাসায় এসে পৌঁছেছে সোহান। ড্রইংরুমে বসে টিভি দেখছে মায়া। ঘরে ঢুকেই মায়ার কপালে হাত দিয়ে দেখলো কপালে জ্বর অাছে কিনা। নাহ, টেম্পারেচার তেমন নেই। হালকা অাছে। সম্ভবত ১০০ ডিগ্রি হবে।
-" মায়া..."
-" জ্বি।"
-" যাও চুল বেঁধে অাসো। অামি ফ্রেশ অাসছি একসাথে রান্না করবো।"
-" অাপনি রান্না করবেন?"
-" অামি একটামেয়ে মানুষের চেয়ে ভালো রাঁধতে পারি। এখন যাও। ভালোমতো চুলটা খোপা করবে। রান্নায় যাতে চুল না পড়ে। খাবার চুল দেখলে অামার মেজাজ বিগড়ে যায়।"
-" জ্বি যাচ্ছি।"
মায়ার খুশি খুশি লাগছে। খুব দ্রুত চুলটা অাটসাট করে বেঁধে কিচেনে চলে এসেছে সে। লোকটা রাগি হতে পারে। কিন্তু ভালো। অনেক ভালো। খুব পছন্দ হয়েছে লোকটাকে মায়ার। এমন মানুষকে মনের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসা যায়। কিন্তু মায়ার ভালোবাসতে বারন। সে যে নষ্ট গলির মেয়ে। ঐ পাড়ার মেয়েদের শুধু ব্যবসা করাই মানায়, ভালোবাসা ব্যাপারটা তাদের সাথে যায় না।
-" চলে এসেছো?"
-" জ্বি।"
-" কি রান্না করতে চাও? "
-" অাপনার কি পছন্দ?"
-" অামার তো কত কিছুই পছন্দ। তুমি কোনটা ভালো রাঁধতে পারো সেটা বলো।"
-" অামি ডাল ভুনা করতে পারি, অালুভর্তা, ডিমভাজি, অার মাছভুনা করতে পারি।"
-" ব্যস এতটুকুই?"
-" হুম। অার কিছু পারি না।"
-" যাস্ট এই কয়টা মেনু পারো। অার তুমি অামাকে জিজ্ঞেস করছো কি খেতে চাই অামি? যদি বলতাম অামি মোরগ পোলাও খাবো তখন তুমি কি করতে?"
-" শামীম ভাইয়ের কাছ থেকে শিখে নিতাম।"
-" ওর মোরগ পোলাও জঘন্য হয়। অাল্লাহ বাঁচিয়েছে অামি তোমাকে তখন রাঁধতে না করেছি। অার নয়তো ঐ মোরগ পোলাও অামাকে গিলতে হতো।"
-" তাহলে এখন কি করবো?"
-" কি অাবার করবে? অামি তোমাকে শিখাবো। যাও ডিপ থেকে মুরগি নিয়ে অাসো। মুরগি নরম হতে হতে পেঁয়াজ কেটে, চাল ধুয়ে রেডি করি।"
মাথার বা পাশটা চিনচিন ব্যাথা করছে মায়ার। মাথাব্যাথাটা বোধহয় শুরু হচ্ছে। কিন্তু সেদিকে পাত্তা দেয়ার তিল পরিমান শখ নেই মায়ার। সে রান্না শিখতে চায় সোহানের কাছ থেকে ।ভালো একটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন সময় কাটাতে চায়। ভালোবাসতে বারন, কিন্তু পাশে দাঁড়াতে তো বারন নেই। পেঁয়াজ কাটছে সোহান। পাশে দাঁড়িয়ে মায়া শসা ছিলছে।
-" অাচ্ছা কখনো কাউকে ভালো লাগেনি তোমার?"
-" নাহ। সবাই এক ধাচের ছিলো। কিন্তু হুট করে একজনকে ভালো লাগতে শুরু করেছে।"
-" অামাকে?"
-" মনে হয়।"
-" ভালো লাগার মানুষটা নিঃসন্দেহে অামি। সেটা তোমার মুখ দেখেই বুঝা যায়। এবং সেটা অামি গতরাতেই টের পেয়েছি যখন তুমি অামাকে বলেছো অামার হাত ধরে তুমি ঘুমাতে চাও ।কারও হাত ধরে ঘুমানোর অর্থ জানো? অর্থটা হচ্ছে পাশের মানুষের মধ্যে তুমি নির্ভরতা খুঁজে পাচ্ছো।
(চলবে)

Shear by :- ঝুমা হালদার 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেনা।.......